ফারার শ্রমিক নেতা প্রসেনজিৎ রায়ের খোঁজে শহর জুড়ে তার গড়ে ওঠা একাধিক ডেরায় হানা
দি নিউজ লায়নঃ অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক কিঞ্চিৎ আপোষ করবে না তৃণমূল হুঁশিয়ারি জেলা তৃণমূল সভাপতি রঞ্জন সরকারের। সে দলীয় কর্মীই হোক কিংবা নেতা কাউকে রেয়াদ করা হবে না সুপ্রেমো নির্দেশের পর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে জেলা তৃণমূল। শুক্রবার অভিযুক্ত ফারার শ্রমিক নেতা প্রসেনজিৎ রায়ের খোঁজে শহর জুড়ে তার গড়ে তোলা একাধিক ডেরায় হানা দেয় পুলিশ। শিলিগুড়ি শহরের কেন্দ্রে তার বিলাসবহুল দুটি বহুতল বাড়ি ও একটি রিসোর্টে চলে পুলিশি হানা।
বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী উত্তরববঙ্গে থাকাকালীন শিলিগুড়ির অদূরে ফুলবাড়ী স্থলবন্দরের শিল্প তালুকের শ্রমিক নেতা প্রসেনজিৎ রায়ের নেতৃত্বে চলে হামলা। আইসিডি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ সরকারি জমিতে শিল্প তালুকের ভেতরে ঢুকে শ্রমিক নেতা প্রসেনজিৎ রায় নেতৃত্বে তার সাঙ্গরা ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ঘটনায় শিল্প তালুকের বেশ কয়েকজন আহত হন। এরপরই পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার মূল অভিযুক্ত প্রসেনজিৎ রায় ঘনিষ্ঠ সুশান্ত দাস ওরফে বাবু দাস কে গ্রেপ্তার করে নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশ।
গ্রেপ্তার করা হয় হরিরাম নামে আরো দুজন ট্রাকচালককে। দিনভর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শিলিগুড়ি শহর জুড়ে থাকা শ্রমিক নেতা প্রসেনজিৎ রায়ের দুটি বিলাসবহুল বাড়ি একটি রিসোর্ট সহ একাধিক ডেরায় হানা দেয় পুলিশ। শহরের দেশবন্ধু পাড়ায় তার বসত বাড়ি ও পাইপালাইনে তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের বাড়ি সহ তার অপর একটি বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। বৈকুন্ঠপুর বনাঞ্চলে তার প্রায়শই যাতায়াত থাকা এক রিসোর্ট সহ ফাড়াবাড়ি বনাঞ্চলে তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্ত প্রসেনজিৎ রায় এর খোঁজে ডুয়ার্স মুখী অভিযানে নামে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান সেখানে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে অভিযুক্ত শ্রমিক নেতা।
অন্যদিকে প্রসেনজিৎ ঘনিষ্ঠ শ্রমিক নেতাদের গ্রেপ্তারির পর তার অঙ্গুলিহেলনে ভিডিও এনজিপি স্টেশন চত্বরে যান চলাচল স্তব্ধ করে বনধে নামেন শ্রমিক সংগঠনের একাংশ। তবে দার্জিলিং জেলা তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি অরূপ রতন ঘোষ নিজে এনজিবি তে উপস্থিত থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক করে দেওয়ার পাশাপাশি সমস্ত দোকানপাট খুলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। যার ফলে যাত্রী পরিষেবা কিছুক্ষণের মধ্যেই স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে আসে। দার্জিলিং জেলা তৃণমূল সভাপতি রঞ্জন সরকার সাংবাদিক বৈঠক করে জানান অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপস করবে না তৃণমূল।
শিল্প তালুকের হওয়া হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অভিযুক্তরা তৃণমূল নেতা-কর্মী হোক বা অন্য কেউ দলের সুপ্রিমো নির্দেশে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ রয়েছে দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। অন্যদিকে শিল্প তালুকের আইসিডি কর্তৃপক্ষ জানায়- প্রসেনজিৎ বাবু সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। তার অভিযোগ ভিত্তিহীন।
আমরা স্থানীয় কর্মীদের দিয়ে বন্দরের কাজ করাচ্ছি। তবে এনজিপি এলাকায় যে ট্রাক রয়েছে তা পুরনো কাঠামোর। তাতে শ্রমিকদের দিয়ে মাল ওঠানো-নামানো করতে হয়। আমাদের কাজের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ডাম্পার ব্যবহার করা হয়। তাই ট্রাক গুলি নেওয়া হয়নি। তার পরিবর্তে যে হামলা ঘটনা ঘটলো তা অকল্পনীয়।তারা জানান তবে আমরা আশাবাদী।মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিষয়টি খোঁজখবর নিয়েছেন। প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি ও মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

Post a Comment